Breaking News

ছয় নি’য়ম মে’নে চললে সি’জার এ’ড়ানো স’ম্ভব: ডা. কাজী ফয়েজা আক্তার

প্রসূতির কাছে এক আত’ঙ্কের নাম সি’জার। এক দু’জন ব্যাতিক্রম বাদে পরিবারের কেউই চান না প্রসূতির সি’জার হোক। তবু দিন দিন সি’জারের পরিমাণ বাড়ছে। উন্নত দেশে সি’জারকে অনুৎসাহিত করা হলেও আমাদের দেশে কার্যত তেমন কোনো উদ্যো’গ চোখে পড়ছে না।

তদুপরি মা ও তার গর্ভস্থ সন্তানের নি’রাপত্তাসহ নানা দিক বিবেচনায় রেখে সি’জার ক’রতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। সি’জার বাড়ার পেছনে রো’গীর স্বজনরা ডাক্তারদের বাণিজ্যিক মনোভাবকে দায়ী করলেও সি’জার করানোর ক্ষেত্রে অন্ত:স্বত্ত্বা ও অভিভাবকদের দায়ও কম নয়। অনেকে প্র’সবকালীন বে’দনা থেকে বাঁচতে সি’জারের সিদ্ধা’ন্ত নেন।

মাতৃমৃ’ত্যু ও স্বা’স্থ্যসেবা জরিপ -২০১৬ অনুযায়ী, ২০১০ সালে দেশে মোট সন্তান প্র’সবের ক্ষেত্রে সি’জারের পরিমাণ ছিল ১২%। কিন্তু ২০১৬ সালে তা এসে দাঁড়ায় ৩১% এ। অর্থাৎ মাত্র কয়েক বছরে সি’জারের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় তিনগুণ।

প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে মোট সন্তান প্র’সবের ৮৩ শতাংশই হচ্ছে সিজা’রিয়ান পদ্ধতিতে। সরকারি স্বা’স্থ্যকে’ন্দ্রে সিজা’রিয়ান প্র’সবের হার ৩৫ শতাংশ। এখনও ৫০ ভাগের বেশি প্র’সব বাড়িতে হয়।

তবে চিকিৎ’সা বিজ্ঞান বলছে, মায়ের গর্ভাবস্থায় সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চললে সি’জার থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। নারী গর্ভবতী হওয়ার পর থেকেই যদি কিছু নিয়ম মেনে চলে তাহলে স্বা’ভাবিক প্র’সব হওয়া সম্ভব।

একুশে টেলিভিশন অনলাইনের পাঠকদের জন্য সেই নিয়মগুলো তুলে ধ’রা হলো-প্রথমত, মায়ের মধ্যে এই আত্মবিশ্বা’সবোধ থাকতে হবে যে, তিনি স্বা’ভাবিকভাবে সন্তান প্র’সব করবেন।

দ্বিতীয়ত, lugel exercise নামে এক ধ’রণের ব্যায়াম আছে। যাতে পেলভিক এলাকার মাংসপেশী সংকোচন ও প্রসারণ করার মাধ্যমে কটি দেশের প্রসারণ ক্ষ’মতা বাড়ানো হয়।

তৃতীয়ত, গ’ভীরভাবে শ্বা’স নিয়ে প্রশ্বা’স ছাড়লে ফু’সফুসের ক্ষ’মতা বাড়ে। অন্ত:স্বত্ত্বার ক্ষেত্রে শ্বা’সকষ্ট বড় একটি স’মস্যা। তাই এ পদ্ধতি অবলম্বন করে নিস্কৃতি পেতে পারেন।

চতুর্থত, ডাক্তারের প’রামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত হাঁটলে সাঁতার কাটলে ও হালকা কিছু ব্যায়াম করলে অন্ত:স্বত্ত্বা শা’রীরিকভাবে শক্ত-সামর্থ্যবান থাকেন। যা স্বা’ভাবিক সন্তান প্র’সবে সহায়ক হয়।

পঞ্চমত, নিয়মিত চেকআপের মাধ্যমে কোনো রো’গ থাকলে যেমন হাইপার টেনশন ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রো’গ নি’য়ন্ত্রণে থাকলে মা নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা ক’রতে পারেন।

ষষ্ঠত, ডাক্তারের দেওয়া খাদ্য তালিকা অনুস্মরণ করলে সন্তান খুব বড়ও হয় না আবার ছোটও হয় না। ফলে স্বা’ভাবিক প্র’সবের সম্ভাবনা বেশি থাকে।

না বললেই নয়, সি’জারে সন্তান প্র’সব ক’রতে গিয়ে মায়ের জীবন যেমন ঝুঁ’কির মুখে প’ড়ে তেমনি পরবর্তীতে মাকে নানা ধ’রনের স্বা’স্থ্য জটিলতার শি’কার হতে হয়।

তাই সি’জারকে `না ` বলাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।লেখক: ডা. কাজী ফয়েজা অাক্তার, এমবিবিএস,এমসিপিএস, এফসিপিএস, কনসালটেন্ট, ইমপালস হাসপাতাল।

Check Also

ধারের টাকায় করা ভ্যানচালকের লেবুর বাগান এক রাতেই শেষ

নাটোরের বড়াইগ্রামে আব্বাস আলী (৩৮) নামে এক দরি’দ্র ভ্যানচালক ধার দেনা করে একটি লেবু বাগান …